Saturday, October 8, 2016

কন্যাং দেহি

আমার কন্যা শিউলি বন্যা, বিদায়লগ্ন বিজয়ায়
বিসর্জনের বাজনা বাজে শিউলিতলার আঙিনায়।
আমার পুত্র কাশফুল ম্লান, মলিন হল তার স্বপ্ন 
হিমের ছোঁয়ায় ঝরে গেল তার সুঠাম দেহের যত্ন। 

দুর্গা আমার কন্যাশ্রী বড় ঘরের দুর্গারত্ন।
দিনকয়েকটা হাতে যে পেলাম তাতেই আত্যি-যত্ন।
আমার কন্যা, আমার দুর্গা বিজয়ার কনকাঞ্জলি
রাত পোহালেই মনখারাপ আর শরত শেষের ফুল তুলি।

আমার দুর্গা বিজয়াদশমী আসছে বছর আবার
রূপং দেহি, জয়ং দেহি আসবে ঘরে আমার।
আমার দুর্গা কন্যাকুমারী লগ্নভ্রষ্টা আত্তিশ্যা
পথে পড়ে থাকা কোজাগরী ভ্রূণ দীপাণ্বিতার পুণ্যাশা।

আমার দুর্গা সারাটিবছরে শ্লীলতাহানির অপমানে
ধর্ষিতা আর লাঞ্ছিতা সে যে বাঁচতে পারেনা সম্মানে।
আমার মেয়েটা ধর্ষিতা আজ চোখের কোণায় কালি।
প্রতিবাদে তার অ্যাসিড-অ্যাটাক ঈভটিজিংয়ে বলি।

তোমার দুর্গা হয়ত গোপনে পণপ্রথার বলি
পণ্যরূপেও পাচার দুর্গা শহরের চোরাগলি।
আমার দুর্গা লেবারপেনেতে ভরাপোয়াতির রূপ
সম্ভোগে আর শীত্কারে সাড়া বাকী সময়েতে চুপ।  

আমার কন্যাভ্রূণেতে লুকিয়ে সেই দুর্গার অংশ
তবু ঘরে ঘরে দুর্গারা করে কন্যারে নির্বংশ । 
কন্যাং দেহি, কন্যাং দেহি, হোক কলরব বিজয়ায়
আমার দুর্গা মাতিয়ে রাখবে বোধন থেকে দশেরায়।  

কন্যাং দেহি, কন্যাং দেহি কন্যার জয়গান।
আমার দুর্গা শুনতে কি পাও কন্যাশ্লোকের গান? 
ওরে কে আছিস? আয় না ছুট্টে, বাঁচা না জ্যান্তদুর্গাকে
দুর্গা না এলে দুর্গাকে আর কুমারীপুজোয়  মানবে কে ?


Saturday, June 11, 2016

মাছরাঙা

মাছরাঙা রাঙা নয়, আহ্লাদে নীলচে
মুড দেখে মনে হল, শুধু মাছ গিলচে।
আশেপাশে উঁকি দেয়, যদি পায় দোসরে
আড্ডাটা জমে যাবে গরমের দুপুরে।
ফুটিফাটা মাঠঘাট বন্ধুরা আসেনা
মাছরাঙা ভাবে শুধু বিষ্টিটা নামেনা।
আয় ঘুম, যায় ঘুম, মেঘকালো দুপুরে
মাছরাঙা বসে ডাকে সঙ্গী ও সাথীরে।
ট্রিং-ট্রিং-ট্রুং-ট্রুং কত সুরে ডাকে সে
কেউ তো আসেনা আর কাঠফাটা জ্যৈষ্ঠ্যে।
কিন্তু সে বড়ো একা রোদে আর দুপুরে
মাছ খেয়ে ক্লান্ত সে নামবেনা পুকুরে।
শুধু যদি পায় এক বন্ধু কি সঙ্গ !
তাহলেই জমে যাবে তামাশা ও রঙ্গ ।
রাঁধতে তো পারিনা, কাঁচাতেই তুষ্ট
শুনেছি বলে যে লোকে, কাঁচা খেলে চোখ পুষ্ট।
যদি তুই রেঁধে দিস, কোফ্তা ও কালিয়া
খেয়েতো নেব‌ই আমি, আঁশ-পোঁটা ফেলিয়া ।
শুনেছি বাঙালি নাকি মাছেভাতে পুষ্ট
আমিও কি ঐ জাত? মাছ পেলে তুষ্ট?
শোল-বোল, চুনোপুঁটি যাই পাই গিলি ভাই
মাছ বলে কথা তবু জ্যান্ত হওয়াই চাই।
শুনছি বাঙালী নাকি মরা মাছ রেঁধে খায়
জাপানের লোকে নাকি কাঁচা সুসি গেলে তাই?
এতসব ভেবে শেষে  উড়ে গেল খুশিতে
একা একা চলে গেল পুকুরের পাড়েতে।
যদি দুটো পাওয়া যায় ট্যাংরা কি খলসে
পাতপেড়ে খাবে বসে কি সুখ এ আয়েষে।

Saturday, February 20, 2016

অমর আমার একুশ

তখন মাথায় শিং হয়নি হাট্টিমাটিম টিম্‌
ঘুমের ঘোরে মায়ের গানে তোমায় চেনার দিন।
ঘুম ঘুম চাঁদ পেরিয়ে পাঠ, গোলাপী বর্ণপরিচয়
তোমাকে আঁকড়ে আরো আরো বাঁচি,
জেগে উঠি আরো নিশ্চয়  !!!  
তারপরে তো স্কুল পেরোনো লম্বা ইঁদুর ছুট 
হাতের মুঠোয় থাকি ধরে, তোমার শাড়ির খুঁট ।
ধ্যুত্তেরি আর বিরক্তিতে পার করেছি রচনা
একটুআধটু শখ করে পরা বাংলাভাষার গয়না ।
তবুও তুমি আমার গর্ব, আমার অহঙ্কার 
তোমায় ছাড়া বাঁচব কি করে? কি দেব পুরষ্কার  !!!     

Saturday, December 12, 2015

নারী তোমাকে



মনে আছে কলকাতা?

 লোকসখা পত্রিকায় লিখতে বলা হয়েছিল কবিতার প্রেরণায় কবিতা লেখার কথা। আমাকে তারাপদ রায়ের যেকোনো কবিতার অণুসরণে লিখতে বলা হয়েছিল। তারাপদ রায় আমার বাড়ির খুব কাছাকাছি থাকতেন। তাই একটু বিশেষ দুর্বলতাও ছিল। তাঁর কলকাতার ওপর এই কবিতাটি বেছেছিলাম। লোকসখার এই সংকলনে ১৮০ জন নামী কবির পাশাপাশি ১৮০ নতুন, পরিচিত কবিরাও আছেন। একটি অনবদ্য কবিতা সংকলন এটি। আমি জায়গা পেয়ে কৃতার্থ। রবিঠাকুর থেকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, বিষ্ণু দে থেকে জীবনানন্দ, চৈতালী চট্টোপাধ্যায় থেকে তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, জয় গোস্বামী থেকে শ্রীজাত কেউ বাদ নেই। আরো কতজনের নাম বলি?