Saturday, June 14, 2014

ফাদার্স ডে


পিতা স্বর্গ পিতা ধর্ম
নার্সিংহোমের বেবিকটে চোখ বুঁজে ঘুমিয়ে আমি, করলে আমায় আদর তুমি।
নিলে তুলে কোলে, হাত বুলিয়ে চুলে,
আমি ঘুমিয়েছিলেম, মেয়ে হয়ে এসেছিলেম, তোমার দুঃখ তোমার সুখ ভাগ করে নেব বলে।
আমি নাকি তোমার আয় পয় বাড়ি ঘর সবকিছুর মূলে।
আমি এসে তোমার কাজ বাড়িয়েছি না? তোমাকে দুদন্ড দাঁড়াতে দি নি ।
রংবেরংয়ের জামা, উলের মোজা, ছোট্ট মশারি, তুলোর তোষক, সর্ষের বালিশ, অয়েল ক্লথ, বেবি পাউডার, ফিডিং বটল্, থার্মোস ...
সব কিছু একে একে কিনে কেটে মায়ের পাশে রেখে গেছ।
আমি ঘুমিয়ে, মা ও আধো ঘুমে! হাত রাখলে মাথায় তুমি এসে থেমে।
বাড়ি এলাম আমাদের পুরোণো ভিটেয়, গঙ্গার ধারে, শীতের দুপুরে।
আমি শুধু ঘুম, ঘুম, আর ঘুম। আর তুমি কোন অছিলায় আমার পাশে, ঘুমপাড়ানি গানের সুরে।
খবরের কাগজ হাতে, চায়ের চুমুক সাথে।
বেশ কয়েক বছর পরে...
আমার স্কুলে ভর্তি হওয়ার পরে, লেখাপড়ার সাথে শেখালে গান তোমার ছন্দে তোমার সুরে।
তোমার পাশে থেকে থেকে তৈরি হলাম আমি। আজ তোমার কথা গুলো তোমার চেয়ে ও দামি।
একে একে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কলেজ, ইউনিভার্সিটির গন্ডি পেরোলাম ঠিক !
শুধু ছিলে পাশে তুমি, দিলে শিক্ষা, সাহচর্য্য তুমি পরিশ্রমী !
তুমি আমার সেই তেজোদৃপ্ত পুরুষ, যাকে আমি দেখেছি এতকাল!
গীতা-গায়ত্রী-গঙ্গা স্নানে আপ্লুত, ধ্যানমগ্ন, সৌম্য-প্রশান্ত কোমল মানুষ।
আমার জীবনের প্রথম পুরুষ খুঁজে এনে দিলে ; সেই তুমি আবার আমার মন ছুঁয়ে গেলে !
পাঠিয়ে দিলে স্বামীর ঘরে, বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে, তুমি চলে গেলে আমার থেকে দূরে।
বড্ড অভিমান হোল সেদিন, যখন তোমাকে দেখিনি সবে মাত্র দুদিন।
ক্রমে ভুলে গেলাম আমি, ডুবে রইলাম সংসারে, সঙ্গে আমার নতুন বন্ধু, প্রথম প্রেমিক, আমার প্রিয় স্বামী।
পেলাম আমার ছেলে, আরো গেলাম ভুলে, স্বামী-পুত্র সংসারসুখে, সব পেয়েছির দেশে ;
কি নিষ্ঠুর না আমি? কি স্বার্থপর মেয়ে তোমার! আজ তোমাকে পেয়েছিলাম তাই আমার জীবন ধন্য |
আজ সে কেমন বদলে গেল হয়ত তোমারই জন্য।
জানো ঠিক এমনি হয়, গ্রীষ্ম যায়, বর্ষা যায় মেয়েরা বদলে যায় ।
ঠিক এমনি হয়, তোমার কালোচুল সাদা হয়, মেয়েরা বদলে যায় |
ঠিক এমনি হয় তোমার দাঁত নড়ে, পড়ে যায়, মেয়েরা বদলে যায়।
ঠিক এমনি হয়, বাবার চোখে ছানি পড়ে মেয়েরা বদলে যায়।
তুমি শাসন করেছো এতটাই মোরে, যতটা করেছো সোহাগ, তোমার কাছে হাতেখড়ি ভৈরবী-ইমন-বেহাগ।
তোমার আবৃত্তি, পুরস্কারে তুমি মহান আজ! স্বামিজীর শিকাগো লেকচারে, গীতবিতানের পাতায় পাতায়,
বাচনভঙ্গিমায়, পুরুষ কণ্ঠে, আমি প্রণাম করি তোমায়।
কখনো তোমাকে দেখেছি তারাশঙ্করের কালিন্দীর জমিদারের বেশে, কখনো টিপুসুলতানে মারাঠা ব্রাহ্মণের বেশে,
শরদিন্দুর ঝিন্দেরবন্দী কিম্বা উল্কায় !
তোমার হাত ধরে পয়লা বোশেখের হালখাতার মেহফিলে, দোকানে বিকেলে ।
শীতের দুপুরে, বইমেলার কোলাহলে,বাছাই করা বইয়ের গোছায়, ট্যাক্সি নিয়ে ব্যস্ত রাস্তায়।
শরতের মিঠে রোদে, নিউমার্কেটে, কিম্বদন্তী সব ফ্রকের দোকানে, নতুন জুতোর গন্ধ নিয়ে,
হাতে কারকোর চাইনিজের পার্সেল প্যাকের ভিনিগারের গন্ধ নিয়ে |
মনে পড়ে যায়....
রোববারের সকালে, কলেরগানের চোঙ থেকে একে একে এলপি রেকর্ডের সুরের অনুরণন ..
সিন্ধু ভৈরবী থেকে শিবরঞ্জনীর মূর্ছনা ..সে ও তোমার সংগ্রহ থেকে,
ডোভার লেন কনফারেন্সের নস্টালজিয়ার গন্ধ নিতে নিতে, তোমার সঙ্গে ফ্লুরিজের কেকে,
বা জিমিস কিচেনে, মেট্রোসিনেমার যুদ্ধের ভয়াবহ সিনে।
কত কি পেয়েছি !

জন্মদিনের ভোরে মাথার বালিশের পাশে বুক-অফ-নলেজ থেকে শরদিন্দু অমনিবাস,
কিম্বা সঞ্চয়িতা থেকে বিশ্বপরিচয়, আর্থার কোনান ডয়াল |
একবছর, অকশান থেকে কেনা বিশাল জার্মান পুতুল, আরো কত কি!
হিসেব মেলাতে পারবো না..
আমি তখন অষ্টাদশী, ফ্রক থেকে শাড়ি, প্রথম শাড়ি তোমার দেওয়া মেরুণ বালুচরি!
স্মৃতির ক্যানভাস থেকে হারিয়ে যাবে না সেই সুর;
তুমি ও থাকবে আমার জীবনে সপ্ত ঋষির মত নিয়ে স্মৃতির সুমধুর!
সকলের সব দ্বেষ হিংসা, কর্কশ কটুক্তি হজম করে আজ তুমি নিজের মহিমায় অমলিন, নীলকন্ঠ সম !
পবিত্র-যজ্ঞ-উপবীত তোমার গঙ্গোদকে পূর্ত, পবিত্র!
হে ব্রাহ্মণ প্রণমি তোমারে !
তোমার গন্ডুষ পাত্রে তোমার উচ্ছিষ্ট পান করি,
আশীর্বাদ করো মোরে পিতা স্বর্গ পিতরি পরমং তপঃ ।

Translation of the poem:

The Ultimate Adoration
Asleep on the neonatal hospital cot do I feel the touch of your first love.
I am in your arms and your hands are in my hair and I am asleep.
I had arrived as your daughter to share your joys and sorrows.
Am I your lucky charm? That brought you wealth and prosperity
or ami I a nuisence who would not allow you a moment of peace?
Bright clothes, woolen socks, a tiny mosquito net, a little mattress, special pillows
oil cloth, baby powder, feeding bottle, thermoflask and what not!
One by one you had bought and brought in all and had left them besides me and my mother.
I sleep. My mother dozes, unaware of your hand on my head.
You bring us home on the banks of the Ganges on a chilly winter morning
I sleep to the tunes of your lullabies that you sing
along with your morning newspaper and  a cup of tea.

A few years later...

I am in school but you teach me to sing to your rythmes and your tunes
at your side I discover myself in your precious words
I pass through school and college with you beside me,
guiding me with your labour and company.
You are the radiant being whom I follow
immersed in the sanctity of the trinity of Gita, Gayatri and Ganga,
meditative and tranquil,
You are the first man in my life to reach out and touch my heart.
But then you truss me up in chains of matrimony and send me a way
to my husband far far away from you.
Initially, I am lonely and hurt but then I forget all this as I get carried away
 by my new friend, my first lover and my dear partner.
My son arrives and carries me away even farther to a new world of domestic and family bliss.
How cruel of me? And how selfish is this girl of yours?
You have caused her to bloom but she evolves beyond.

This is how it is!  Summer gives way to monsoon. Girls change with time.
This is how it is ! Black hair gives way to white. Girls change with time.
This is how it is! Teeth turns loose and fall out. Girls change with time.
This is how it is! Daddy's eyes get cloudy. Girls change with time.

You have always balanced your rebuke with your love.
You have introdeuced me to the mellifluous tunes of the Ragas
I cherish and salute the accolades that you have won..

in reciting poetry
in reciting the speech of Swami Vivekananda at Chicago
with the baritone of your songs of Tagore
on stage enacting the roles of famous historic figures

I remember...

the new year rituals when I help you with the new accounts
the surging crowd at the Calcutta Book fair on pleasant winter afternoons
the excitement of a new stack of books
autumnal  puja shopping  in Newmarket
the smell of brand new shoes
the smell of vinegar in the chinese foods picked up
the cone of the gramaphone, resonating to the tunes of an LP record
rare and famous tunes from your collection of classical Indian music
the soiree at Dover Lane, cakes from Flury's, Jimmy's kitchen and war movies at the Metro

I am blessed !
with your gifts of encyclopedia, omnibus collections of
Tagore, Saradindu and Konan Doyle
left by my bed side on my birthday morning
with the huge German Doll that you had bought at an auction
My first Baluchori Sari that heralded my transition from a girl to a woman.

these are memories that will not fade from the canvas of remembrance.

You are as perennial as a seven stars of the Great Bear in the sky
You rise above the harsh cacophony of mundane jealousy and stand aloft
like a glistening tower of an icy mountain peak.
You are as pure as the power of your faith and brimming with
the purity and sanctity of The Ganges.
I bow my head in reverence to the profundity  embodied in you
Let me eat the little crumbs fall on your bowl and allow me
to be blessed by my father, the object of ultimate adoration!

জীবনের দ্বিতীয় লিটারারি এওয়ার্ড পেয়েছিলাম স্বরচিত কবিতাটির ইংরেজী অনুবাদ করে। আমার প্রথম কবিতার ব‌ইয়ের প্রথম কবিতা এটি।

Saturday, May 10, 2014

"খোলাচিঠি — মাকে "

"খোলাচিঠি — মাকে "

“মা” তোমাকে দুদিন দেখিনি, মনে হচ্ছে দু’যুগ
এলোমেলো কিছু কাজের পাহাড় আমার সকাল
ঊনিশ-কুড়ির মত গুগুল দ্বীপে কাটে দুপুর
বিকেলগুলো এখন খুব রঙীন না হলেও ছন্দ মধুর ;
দেখো মা, কত লক্ষ্মী হয়েছি আমি,
সিঁড়িভাঙার অঙ্কখাতায় আর কানমোলায়
ইতিহাস-ভূগোলের অগোছালোতায় আর নেই আমি।
চালডালের ফুটন্ত খিচুড়ির টগবগতায়,
থোড়-বড়ি-ডাঁটার জঞ্জালে আমার কলম চলছে
শেষপাতে পরমান্নের মত!
তোমার জুঁইগাছে জল, গীতা-গায়ত্রি-গঙ্গা,
তুলসীতলায় সাঁঝবাতি সব‌ই বাধ্যতার তালিকায়,
ধোপা-নাপিতের হিসেবের রোজনামচায়
গরমের ছুটির খুনসুটির দুপুরগুলো,
আমায় অঙ্ক কষায় আর ছবি আঁকায় ;
আমার অঙ্ক এখনো মেলেনি মা…
রোয়াকের রাইবেলের গন্ধ, বৃষ্টিবাদল-আড্ডায়,
বর্ষামেঘের কাজরী গান শোনায়

ফুলতলায় ঘর বেঁধেছিলাম আমরা…
শিউলিফোটার গন্ধবৃষ্টি পাবো বলে,
লক্ষ্মীপূর্ণিমার কোজাগর রাতের আকাশের
সেই বাঁধভাঙা হাসি মনে পড়ে?
কার্ত্তিকমাসের আকাশপ্রদীপ দেখে মনটা ডুকরে ওঠে
দুরের তারার পানে চেয়ে ভাবি তোমার গানের কথা
বসন্ত দূরে, তবুও কোকিলটা জ্বালিয়ে মারে..
মন ভালো করা এসএমএস গুলো নিয়ে
মিসডকল গুলো দেখে বাঁচতে চেয়েছিলাম
আমি চলতে চলতে অন্ত:সলিলা ফল্গুনদী
রিক্ত হতে হতে শূন্যতায় পৌঁচেছি,
তবুও মুক্তি মেলেনি।
ভুলবোঝাবুঝির টানাপোড়েনে স্মৃতির ক্যানভাসকে
নতুন রঙতুলির টানে জিইয়ে রাখছি
সেদিনের গোধূলির গোগ্রাসে আমার ডুরে শাড়ির লালটুকু
আমার সীমন্তে লেগেছিল, হয়েছিলাম সুমঙ্গলীবধু !
আজও শুনতে পাই অতীতের কোলাহল
সম্বোধনের প্রতিধ্বনি, সম্মোহনের গান ।
আমি নীল পাহাড়ের কোলে একটা সাদা শহরে
শুনতে পাই সেই সব অকিঞ্চনের ছন্দ,
ছন্দপতনের শব্দ আর শুনি শব্দবন্ধনের হাতছানি।
সেই গুগুলদ্বীপের আমি এক নির্বাসিত অতিথি,
তবুও এই বেশ ভালো, আমার সব পেয়েছির দেশ !
পাগলের মত ধরেছি তাকে, শান্তিসাগরে ঘর বেঁধেছি
পিঠটা দেয়ালে ঠেকার আগেই ধরে ফেলেছি তাকে
তবুও বেঁচে র‌ইলাম আমার কবিতার অমরাবতীতে!



কবিতাটি আসামের করিমগঞ্জের দৈনিক পত্রিকা "দৈনিক জনকন্ঠ"র রবিবারের পাতা "জনমজলিশে" প্রকাশিত হয়েছে ২৫ শে এপ্রিল ২০১০

Thursday, May 8, 2014

খোলাচিঠি রবিঠাকুরকে....


তুমি না কি স্কুল পালিয়ে ছবির খাতায় আঁকো  ?
গোল্লাছুটের দুপুরগুলোয় কাব্যি করে লেখো?
রবিঠাকুর তোমার নাকি  খুনসুটির এই ভোর
গান লিখতে  সিঁড়ি ভেঙে চিলেকোঠার দোর ।
রবিঠাকুর তুমি চেনো মেঘের কোলে রোদ ?
জীবনভর তোমার দেনা কেমনে করি শোধ ? 
ছোট্টবেলায় মা চেনালো রবিকবির আলো
সেইতো আমার হাতেখড়ি গান-বিকেলের ভালো ।
রবিঠাকুর তোমায় যদি সেলফোনেতে পেতাম
এসেমেসের বৃষ্টি ফোঁটা উজাড় করে দিতাম । 

রবিঠাকুর জানো তুমি মাল্টিপ্লেক্সের ঢল্‌ ?
তোমার গল্প-গানছবিতে মাতাল শপিংমল ।
রবিঠাকুর দেখবে তুমি ফ্লাইওভারের ধারে
হোর্ডিং ওলা রঙিন ছবি শিল্পী সারেসারে ।
দেড়শো তোমার পূর্ণ হ'ল পুজোয় মাতে লোক
প্রভাতফেরী গানের ভেরী দেড়শো মানার ঝোঁক । 

রবিকবি তুমি না কি ফেসবুকেতে আছো?
স্টেটাসে তে কাব্যি ঝরাও মনের সুখে বাঁচো ।
রবীন্দ্রনাথ আছো তুমি যন্ত্রজালে বন্দী
ট্যুইট দেখি মাঝেসাঝে বুঝি নাকি ফন্দী ?
রবিঠাকুর রবিঠাকুর খোলা খেরোখাতা
ছিটেফোঁটা দাওনা লিখে মনের দুটো কথা ।

Monday, April 21, 2014

ডাক পাড়ি

এক টুকরো ছোট্ট অনুভূতি মনের কোণা বেয়ে বেয়ে
একটা ছোট্ট আশায় পরিণত হল,
ছোট্ট আশার চারাগাছ বুকের মাঝে ঢেউ তুলল এক শান্ত চিন্তার ।
জন্ম নিল একটি কথাগাছে, কথাগাছের শব্দ-লতারা ডালপালা মেলে
বিস্তার করল ভাষার মধ্যে,
বুকের মাঝে কথার কথায় সোচ্চারিত হল কথাটি
বার বার অনুরনিত হল কথাদের প্রতিধ্বনি শব্দকণায়, গানের মালায় ।
আমি আবার আসব ফিরে কথায় কথায়, গানের সুরে,
যখন তুমি ডাকবে আমায় 
শুধু বিদায় বোলোনা, বিদায়ের কোনো চিহ্ন রেখো না |
দেখ পাল্টেছে সবকিছু, কিন্তু তাই বলে ভেবোনা আগে এমন ছিল না
শুধু চিনতে চেষ্টা করো বন্ধুদের
যখন জীবনযুদ্ধে নামবে তুমি
সুদূর অন্ধকার দিগন্তে একটি তারার আলোকে অনুসরণ করে
পথ চলো, পিছু নাও তার
আর ফিরে এসো তখন যখন শেষ হবে তোমার কাজ
শুধু বিদায় বলো না, বিদায়ের কোনো চিহ্ন রেখো না |
আর ঐ যে শুরুতে বলেছিলাম সেই টুকরো অনুভূতির কথা,
তারা হয়ত জানেনা যে আমি বুঝি
আর তারা বোঝেনা বলে ভেব না অমি বুঝি না
তোমার স্মৃতিকণাগুলি তীক্ষ্ণ হতে তীক্ষ্ণতর হোক শুধু চাই এইটুকু |
যতক্ষণ তারা তোমার চোখের সামনে এসে ধরা দেয়
তুমিও এসে ধরা দিও যখন তোমাকে ডাকবে তারা
শুধু বিদায় বলো না, বিদায়ের চিহ্ন মুছে দিও |

Wednesday, April 16, 2014

দোলদরিয়ার উত্তরে

সেই সকালের বসন্তে, ফাগ-ফাগুণের রং লাগল, শাল-পলাশের বনান্তে ।
জমজমাটি দোলপিঁড়ি, খঞ্জিরাতে কৃষ্ণরাধা, রং মিলানো গানসিঁড়ি ।
অবুঝ মনের সবুজ রং, ছোঁয়ালাগার টুসকি আবির, রংয়ের পরত জবর জং ।
সেই বিকেলের বসন্তে, শেষ ফাগুণের আগুণ লাগে, মন মহুয়ার দিগন্তে ।
গান মঞ্চ, মাদল নাচ, ঝুমুর গানে কোমর দোলে, আঁধার আলোয় হিয়ার আঁচ।
মঞ্চ ভাসে জ্যোত্স্নাতে, আলগা চটক বাউলানী, প্রেম যমুনার বন্যাতে ।
আউল-বাউল সন্ন্যেসী, একতারাতে বৃন্দগান, চাইল যে মন কমবেশী ।
ফুরিয়ে গেল দোল, উড়োপাতার তাসের ঘরের, বন্ধ দুয়ার খোল।


এইসময় ব্লগে প্রকাশিত  

Wednesday, March 12, 2014

নারী-নক্ষত্র

আমার নারী গ্রীষ্মঋতুতে জ্বর এলে জলপটি
আমার নারী বর্ষা-শরতে শাড়ি তার ধুলোমুঠি ।
আমার নারীটি মায়ের মতন আধফোটা ভেজা শিউলি
ল্যাজাতে-মুড়োতে ঢেকেছে লজ্জা, কনে দেখা মেঘ গোধূলি ।
আমার নারী হেমন্তে ধান নবান্নে পোষ-লক্ষ্মী
পিঠেপার্বণে কয়লার আঁচে ওম্‌ নেওয়া যেন পক্ষী ।
আমার নারী নিরাভরণা সে শাঁখায় সিঁদুরে লাবণী
খড়কে ডুরেতে আটপৌরে সে বৈশাখী বা শ্রাবণী ।
নিজের জন্যে বাঁচতে শেখেনি আমার শ্রীমতী নারী
ভাললাগাটুকু ঝেড়ে ফেলে বলে "ভালো আছি আমি তোমারি" !
আমার নারী বৃষ্টিশাড়িতে, উঠোনে ইলশেগুঁড়িতে
শীতরোদ্দুরে নকশীকাঁথায়, উলের গোলায় কাঁটাতে ।
আমিও যে সেই নারীর কন্যা খোলা বসন্ত উঠোনে
লজ্জা চাউনি আমার অঙ্গে ভালোবাসার সে ফাগুণে ।


এইসময় ব্লগে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক নারী দিবসে