Saturday, May 10, 2014

"খোলাচিঠি — মাকে "

"খোলাচিঠি — মাকে "

“মা” তোমাকে দুদিন দেখিনি, মনে হচ্ছে দু’যুগ
এলোমেলো কিছু কাজের পাহাড় আমার সকাল
ঊনিশ-কুড়ির মত গুগুল দ্বীপে কাটে দুপুর
বিকেলগুলো এখন খুব রঙীন না হলেও ছন্দ মধুর ;
দেখো মা, কত লক্ষ্মী হয়েছি আমি,
সিঁড়িভাঙার অঙ্কখাতায় আর কানমোলায়
ইতিহাস-ভূগোলের অগোছালোতায় আর নেই আমি।
চালডালের ফুটন্ত খিচুড়ির টগবগতায়,
থোড়-বড়ি-ডাঁটার জঞ্জালে আমার কলম চলছে
শেষপাতে পরমান্নের মত!
তোমার জুঁইগাছে জল, গীতা-গায়ত্রি-গঙ্গা,
তুলসীতলায় সাঁঝবাতি সব‌ই বাধ্যতার তালিকায়,
ধোপা-নাপিতের হিসেবের রোজনামচায়
গরমের ছুটির খুনসুটির দুপুরগুলো,
আমায় অঙ্ক কষায় আর ছবি আঁকায় ;
আমার অঙ্ক এখনো মেলেনি মা…
রোয়াকের রাইবেলের গন্ধ, বৃষ্টিবাদল-আড্ডায়,
বর্ষামেঘের কাজরী গান শোনায়

ফুলতলায় ঘর বেঁধেছিলাম আমরা…
শিউলিফোটার গন্ধবৃষ্টি পাবো বলে,
লক্ষ্মীপূর্ণিমার কোজাগর রাতের আকাশের
সেই বাঁধভাঙা হাসি মনে পড়ে?
কার্ত্তিকমাসের আকাশপ্রদীপ দেখে মনটা ডুকরে ওঠে
দুরের তারার পানে চেয়ে ভাবি তোমার গানের কথা
বসন্ত দূরে, তবুও কোকিলটা জ্বালিয়ে মারে..
মন ভালো করা এসএমএস গুলো নিয়ে
মিসডকল গুলো দেখে বাঁচতে চেয়েছিলাম
আমি চলতে চলতে অন্ত:সলিলা ফল্গুনদী
রিক্ত হতে হতে শূন্যতায় পৌঁচেছি,
তবুও মুক্তি মেলেনি।
ভুলবোঝাবুঝির টানাপোড়েনে স্মৃতির ক্যানভাসকে
নতুন রঙতুলির টানে জিইয়ে রাখছি
সেদিনের গোধূলির গোগ্রাসে আমার ডুরে শাড়ির লালটুকু
আমার সীমন্তে লেগেছিল, হয়েছিলাম সুমঙ্গলীবধু !
আজও শুনতে পাই অতীতের কোলাহল
সম্বোধনের প্রতিধ্বনি, সম্মোহনের গান ।
আমি নীল পাহাড়ের কোলে একটা সাদা শহরে
শুনতে পাই সেই সব অকিঞ্চনের ছন্দ,
ছন্দপতনের শব্দ আর শুনি শব্দবন্ধনের হাতছানি।
সেই গুগুলদ্বীপের আমি এক নির্বাসিত অতিথি,
তবুও এই বেশ ভালো, আমার সব পেয়েছির দেশ !
পাগলের মত ধরেছি তাকে, শান্তিসাগরে ঘর বেঁধেছি
পিঠটা দেয়ালে ঠেকার আগেই ধরে ফেলেছি তাকে
তবুও বেঁচে র‌ইলাম আমার কবিতার অমরাবতীতে!



কবিতাটি আসামের করিমগঞ্জের দৈনিক পত্রিকা "দৈনিক জনকন্ঠ"র রবিবারের পাতা "জনমজলিশে" প্রকাশিত হয়েছে ২৫ শে এপ্রিল ২০১০

Monday, April 21, 2014

ডাক পাড়ি

এক টুকরো ছোট্ট অনুভূতি মনের কোণা বেয়ে বেয়ে
একটা ছোট্ট আশায় পরিণত হল,
ছোট্ট আশার চারাগাছ বুকের মাঝে ঢেউ তুলল এক শান্ত চিন্তার ।
জন্ম নিল একটি কথাগাছে, কথাগাছের শব্দ-লতারা ডালপালা মেলে
বিস্তার করল ভাষার মধ্যে,
বুকের মাঝে কথার কথায় সোচ্চারিত হল কথাটি
বার বার অনুরনিত হল কথাদের প্রতিধ্বনি শব্দকণায়, গানের মালায় ।
আমি আবার আসব ফিরে কথায় কথায়, গানের সুরে,
যখন তুমি ডাকবে আমায় 
শুধু বিদায় বোলোনা, বিদায়ের কোনো চিহ্ন রেখো না |
দেখ পাল্টেছে সবকিছু, কিন্তু তাই বলে ভেবোনা আগে এমন ছিল না
শুধু চিনতে চেষ্টা করো বন্ধুদের
যখন জীবনযুদ্ধে নামবে তুমি
সুদূর অন্ধকার দিগন্তে একটি তারার আলোকে অনুসরণ করে
পথ চলো, পিছু নাও তার
আর ফিরে এসো তখন যখন শেষ হবে তোমার কাজ
শুধু বিদায় বলো না, বিদায়ের কোনো চিহ্ন রেখো না |
আর ঐ যে শুরুতে বলেছিলাম সেই টুকরো অনুভূতির কথা,
তারা হয়ত জানেনা যে আমি বুঝি
আর তারা বোঝেনা বলে ভেব না অমি বুঝি না
তোমার স্মৃতিকণাগুলি তীক্ষ্ণ হতে তীক্ষ্ণতর হোক শুধু চাই এইটুকু |
যতক্ষণ তারা তোমার চোখের সামনে এসে ধরা দেয়
তুমিও এসে ধরা দিও যখন তোমাকে ডাকবে তারা
শুধু বিদায় বলো না, বিদায়ের চিহ্ন মুছে দিও |

Wednesday, April 16, 2014

দোলদরিয়ার উত্তরে

সেই সকালের বসন্তে, ফাগ-ফাগুণের রং লাগল, শাল-পলাশের বনান্তে ।
জমজমাটি দোলপিঁড়ি, খঞ্জিরাতে কৃষ্ণরাধা, রং মিলানো গানসিঁড়ি ।
অবুঝ মনের সবুজ রং, ছোঁয়ালাগার টুসকি আবির, রংয়ের পরত জবর জং ।
সেই বিকেলের বসন্তে, শেষ ফাগুণের আগুণ লাগে, মন মহুয়ার দিগন্তে ।
গান মঞ্চ, মাদল নাচ, ঝুমুর গানে কোমর দোলে, আঁধার আলোয় হিয়ার আঁচ।
মঞ্চ ভাসে জ্যোত্স্নাতে, আলগা চটক বাউলানী, প্রেম যমুনার বন্যাতে ।
আউল-বাউল সন্ন্যেসী, একতারাতে বৃন্দগান, চাইল যে মন কমবেশী ।
ফুরিয়ে গেল দোল, উড়োপাতার তাসের ঘরের, বন্ধ দুয়ার খোল।


এইসময় ব্লগে প্রকাশিত  

Wednesday, March 12, 2014

নারী-নক্ষত্র

আমার নারী গ্রীষ্মঋতুতে জ্বর এলে জলপটি
আমার নারী বর্ষা-শরতে শাড়ি তার ধুলোমুঠি ।
আমার নারীটি মায়ের মতন আধফোটা ভেজা শিউলি
ল্যাজাতে-মুড়োতে ঢেকেছে লজ্জা, কনে দেখা মেঘ গোধূলি ।
আমার নারী হেমন্তে ধান নবান্নে পোষ-লক্ষ্মী
পিঠেপার্বণে কয়লার আঁচে ওম্‌ নেওয়া যেন পক্ষী ।
আমার নারী নিরাভরণা সে শাঁখায় সিঁদুরে লাবণী
খড়কে ডুরেতে আটপৌরে সে বৈশাখী বা শ্রাবণী ।
নিজের জন্যে বাঁচতে শেখেনি আমার শ্রীমতী নারী
ভাললাগাটুকু ঝেড়ে ফেলে বলে "ভালো আছি আমি তোমারি" !
আমার নারী বৃষ্টিশাড়িতে, উঠোনে ইলশেগুঁড়িতে
শীতরোদ্দুরে নকশীকাঁথায়, উলের গোলায় কাঁটাতে ।
আমিও যে সেই নারীর কন্যা খোলা বসন্ত উঠোনে
লজ্জা চাউনি আমার অঙ্গে ভালোবাসার সে ফাগুণে ।


এইসময় ব্লগে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক নারী দিবসে  

Friday, March 22, 2013

সেদিন চৈত্রমাস!




অনেকগুলো চৈতালী ভোর পেরিয়েও এমন সর্বনাশের ইশারা পাইনি । আজ ছাইরঙা কুয়াশার ভোরে হাঁটতে হাঁটতে পিচের পাকা রাস্তায় । দুপাশের শিমূল পলাশের সঙ্গী মহুয়া । মহুয়া সুখী ফুল ।  ফুল থেকে সবজে হলুদ ফলটুকুনিও ঝরে পড়ে  মনের সুখে  ।  সেই মহুয়া সরণী ধরে পথ চলায় যে মাদকতা, তা পেয়েছি আজকের ভোরে । হলুদ ফরাস পাতা  মহুয়া সরণী বেয়ে চলেছি আর পাশের গাঁয়ের আবালবৃদ্ধবণিতার কোঁচোড় ভরে সেই মহুয়া ফল কুড়িয়ে নেওয়া দেখে মন পৌঁছে গেল সেই লালপাহাড়ির দেশে...    

এবার পুজোতে বোলপুরে একদল মাদল নাচিয়ের সাথে আলাপ জমেছিল ।  ওরা শ্যামলা গাঁয়ের শ্যামলা একদল মেয়ে । সাথে কয়েকজনের মরদ। ওদের চিকন কালো চুল, খোঁপায় বাঁধা বকের পালক, হলুদ গাঁদার ফুল, রূপোর শুলগা । লম্বাটে চোঙাকৃতির "মাদল" তালযন্ত্রটিকে  আর গোলাকার তবলার মত "লাগড়া" বাদ্যযন্ত্রটিকে নিয়ে ওরা নাচে আর গান তৈরী করে । আর ওদের গান সৃষ্টির মূলে হল  চৈত্রমাসের মহুয়া উত্সব । মহুয়ার মৌ জমে ওঠে ওদের ঘরে ঘরে আর ওরা নাচে, গান করে । আজকের মহুয়া কুড়োনোর সেই ছবিটা দেখে বুকে সেই মাদল বাজার শব্দ পেলাম । 
আর মনে মনে বলে উঠলাম


 "ও মেয়ে  তুই কুথা যাস রাঙামাটির পরে
ধামসা মাদল, মহুয়া ফুল কুথায় আছে ঘরে ? "      


আজকের চৈতী ভোর উসকে দিল আমার বসন্তকে আরো একবার!  


Friday, March 15, 2013

আমার জীবনের তুমিরা !

আমার জীবনপাত্র উথলে উঠেছে  মনে দাগ কাটার মত অনেক "তুমি"র জন্যে ।  তাই তুমির কথা বলতে গেলে কাকে ছেড়ে কার কথা বলি!
ছোট্টবেলায় মায়ের শাসন থেকে রেহাই পেতে ঠাম্মাবুড়ির সাথে পুতুলের বিয়ে দেওয়া, রুটি বেলার খেলাখেলির সময় মনে হত  "থাক্‌না এই মানুষটা আমার সারাটা জীবন ভোর "তুমি" হয়ে !"
তারপর যখন উচ্চমাধ্যমিকের গন্ডী পেরিয়ে কলেজে পা দেওয়া তখন বিজ্ঞান-প্রেমে হাবুডুবু আমার "তুমি" হয়ে উঠল কেমিষ্ট্রি, জীবনের ধ্যানজ্ঞান । স্নাতকোত্তর পার হল বিশ্ববিদ্যালয়ে দস্তুর মত দ্বিতীয় স্থান সেই "তুমি"কে ঘিরেই ।  তারপর সবকিছু ওলটপালট !
ছেঁডাছেঁড়া কবিতারা এল আমার সেই "তুমি" হয়ে.... ঘুমঘোরে পদ্যপুর পাড়ি দিলাম  । সঙ্গের সাথী হল সেই "তুমি"রা । গদ্য-পদ্যের জগত ঘিরে কত "তুমি" সেখানে!  এছাড়া আমার "তুমি"র লিস্টিতে ব্যালকনির টব-বাগানের তরতাজা ফুলগুলো অথবা অলসদুপুরের খুনসুটির সাথী সেই কাঠবিড়ালী অথবা বসন্তবৌরীরা থেকেই গেছে মনের খোরাকের "তুমি" হয়ে ।
রক্তমাংসের "তুমি" এল জীবনে  । তাকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন ডাউনলোডিং হৈ হৈ করে ব্যান্ডাউইডথ পুড়িয়ে । জীবন-কেমিষ্ট্রি বদলে দিল  সেই "তুমি"র মা ডাক।
আবার ঋতুচক্রের ঝরাপাতায় ফাগুনের ফেসবুক দিল কিছু ম্যাজিক-মূহুর্ত । তখন অনেক "তুমি" ভালোলাগার, ওঠাবসার সঙ্গী । যেমন সন্ধ্যেবেলার "তুমি" বা ভোরের আলোর অন্য "তুমি"রা ।  
আর আছে আমার চারপাশে সেই অদৃশ্য "তুমি" যে আমার কোঅর্ডিনেটর, সঞ্চালিকা যাই বলো । 

Monday, March 4, 2013

কন্যে আমি

আবার আমায় নাও না কোলে তুলে কিম্বা নাহয় ঠাঁই দাও মাগো তোমার জরায়ুতে,
এবার দশ-মাস দশ-দিন নয়, থাকবো মাগো সারাজীবন ধরে । 
এই সমাজের চেয়ে বোধহয় ভালো ছিল তোমার পেটের ভেতরটা,
শোণিত-লোহিতকণার মাঝে রক্তমাংস'দলাটা ।
তবুও তো আমি সুরক্ষিত সেখানে
ভিতর-বাহিরে অন্তরে অন্তরে ঠিক যেমনি ছিলাম
তোমার মনের মাঝখানে ।