পেরিয়ে এলাম তেপান্তর কবিতার খেরোখাতায় হোঁচট খেতে খেতে। তারপর সবকিছু ওলটপালট ! ছেঁডাছেঁড়া কবিতারা এল আমার হয়ে। ঘুমঘোরে পদ্যপুর পাড়ি দিলাম । ঋতুচক্রের ঝরাপাতায়, ফাগুনে সে দিল কিছু ম্যাজিক-মূহুর্ত । বৈশাখী বিকেলে এলোপাথাড়ি শিলাবৃষ্টিতে, বর্ষার মেঘদুপুরে ছন্নছাড়া ইলশেগুঁড়িতে, শরতের শিশিরভেজা শিউলিতলায়, হেমন্তের হিমঝরা সন্ধ্যেবেলায় আর শীতের অমৃতকমলার দুপুরগুলোয় আমার গদ্যপুর পাড়ি দেবার সাথে সাথে তার সঙ্গে চলেছিল নীরবে ওঠাবসা। আমি বলি ছিন্নপাতা। তুমি বলবে ছেঁড়াখাতা। কে জানে? কবিতাই বুঝি এর নাম!
Sunday, April 7, 2019
Wednesday, March 7, 2018
সাজ
ও মেয়ে তুই কার জন্যে আলতা পরিস? কার জন্যে হাত রাঙাস?
কিসের জন্যে মেহেন্দীতে খয়ের ভেঙ্গে লালচে বানাস?
কেন রে তোর মাথার সিঁথি টকটকে লাল শালু কাপড়?
ধবধবে তোর শাঁখার কোলে লাল পলাটা আজো অনড়!
বাঁহাতের তোর নোয়া টা যেন কালশিটে সেই আগের!
বেঁধে রাখার অভ্যেসটা সয়েই গেল আজো তোদের।
কপালের টিপ টুকটকে লাল, ফেটেছে মাথাটা সজোরে
ধাক্কা লেগে সত্যি সেদিন বউ হয়েছিস তেমনি করে।
কার বউ তুই? কেন রে বউ? কিসের জন্যে বুক বাঁধিস?
শ্যামলা গাঁয়ের আদুড় গায়ে আগুণ তাতে কি রাঁধিস?
শ্যামলা মেয়ের আলতাপাটি যুগে যুগে থাকল রাঙা
আসলে তো কপালটা তোর এক্কেবারেই ছিল ভাঙা।
আখ পেষায়ের যাঁতাকলে অহোরাত্র চাপে আছিস
ত্যাগের মন্ত্র জীবন করে মুখ বুঁজে তুই হাসি চাপিস।
বারোমেসে তেরো পাব্বন কার জন্য কেন করিস?
লক্ষ্মী পাতা, উপোস ব্রত বসুধারা যত্নে আঁকিস।
যার জন্য এত মঙ্গল, আঁকড়ে রাখিস মানুষটিকে
সে কি তার মূল্য বুঝে আগলে রাখে শুধুই তোকে?
Sunday, January 21, 2018
Monday, December 25, 2017
ক্রিসমাস
কেকমাস আজ মধুমাস, ক্রিসমাস পোষমাসে
একাকার হল হাড়মাস, শীতমাস সব্বোনেশে !
বাকী তিনমাস পর পচামাস তাই বাঁচো ভাই বেশ কশে
আজ ক্রিসমাস, ঝোলাগুড় খাস আর কেক খাস বসে বসে ।
রসেবশে বাঙালী সে কেকপিঠে খায়, মন্দিরে বসে বসে ক্যারলও শোনায়
ভোগ বেড়ে, গীর্জায় গীতা পাঠ করে, নাটমন্দিরে বসে চকোলেট ছোঁড়ে ।
খেঁজুর গুড়ে কেক ডুবিয়ে ঢেঁকুর তুলে মরি গাউন গায়ে ঘোমটা টেনে পান চিবুতেও পারি !
একাকার হল হাড়মাস, শীতমাস সব্বোনেশে !
বাকী তিনমাস পর পচামাস তাই বাঁচো ভাই বেশ কশে
আজ ক্রিসমাস, ঝোলাগুড় খাস আর কেক খাস বসে বসে ।
রসেবশে বাঙালী সে কেকপিঠে খায়, মন্দিরে বসে বসে ক্যারলও শোনায়
ভোগ বেড়ে, গীর্জায় গীতা পাঠ করে, নাটমন্দিরে বসে চকোলেট ছোঁড়ে ।
খেঁজুর গুড়ে কেক ডুবিয়ে ঢেঁকুর তুলে মরি গাউন গায়ে ঘোমটা টেনে পান চিবুতেও পারি !
Saturday, October 8, 2016
কন্যাং দেহি
আমার কন্যা শিউলি বন্যা, বিদায়লগ্ন বিজয়ায়
বিসর্জনের বাজনা বাজে শিউলিতলার আঙিনায়।
আমার পুত্র কাশফুল ম্লান, মলিন হল তার স্বপ্ন
হিমের ছোঁয়ায় ঝরে গেল তার সুঠাম দেহের যত্ন।
দুর্গা আমার কন্যাশ্রী বড় ঘরের দুর্গারত্ন।
দিনকয়েকটা হাতে যে পেলাম তাতেই আত্যি-যত্ন।
আমার কন্যা, আমার দুর্গা বিজয়ার কনকাঞ্জলি
রাত পোহালেই মনখারাপ আর শরত শেষের ফুল তুলি।
আমার দুর্গা বিজয়াদশমী আসছে বছর আবার
রূপং দেহি, জয়ং দেহি আসবে ঘরে আমার।
আমার দুর্গা কন্যাকুমারী লগ্নভ্রষ্টা আত্তিশ্যা
পথে পড়ে থাকা কোজাগরী ভ্রূণ দীপাণ্বিতার পুণ্যাশা।
আমার দুর্গা সারাটিবছরে শ্লীলতাহানির অপমানে
ধর্ষিতা আর লাঞ্ছিতা সে যে বাঁচতে পারেনা সম্মানে।
আমার মেয়েটা ধর্ষিতা আজ চোখের কোণায় কালি।
প্রতিবাদে তার অ্যাসিড-অ্যাটাক ঈভটিজিংয়ে বলি।
তোমার দুর্গা হয়ত গোপনে পণপ্রথার বলি
পণ্যরূপেও পাচার দুর্গা শহরের চোরাগলি।
আমার দুর্গা লেবারপেনেতে ভরাপোয়াতির রূপ
সম্ভোগে আর শীত্কারে সাড়া বাকী সময়েতে চুপ।
আমার কন্যাভ্রূণেতে লুকিয়ে সেই দুর্গার অংশ
তবু ঘরে ঘরে দুর্গারা করে কন্যারে নির্বংশ ।
কন্যাং দেহি, কন্যাং দেহি, হোক কলরব বিজয়ায়
আমার দুর্গা মাতিয়ে রাখবে বোধন থেকে দশেরায়।
কন্যাং দেহি, কন্যাং দেহি কন্যার জয়গান।
আমার দুর্গা শুনতে কি পাও কন্যাশ্লোকের গান?
ওরে কে আছিস? আয় না ছুট্টে, বাঁচা না জ্যান্তদুর্গাকে
দুর্গা না এলে দুর্গাকে আর কুমারীপুজোয় মানবে কে ?
বিসর্জনের বাজনা বাজে শিউলিতলার আঙিনায়।
আমার পুত্র কাশফুল ম্লান, মলিন হল তার স্বপ্ন
হিমের ছোঁয়ায় ঝরে গেল তার সুঠাম দেহের যত্ন।
দুর্গা আমার কন্যাশ্রী বড় ঘরের দুর্গারত্ন।
দিনকয়েকটা হাতে যে পেলাম তাতেই আত্যি-যত্ন।
আমার কন্যা, আমার দুর্গা বিজয়ার কনকাঞ্জলি
রাত পোহালেই মনখারাপ আর শরত শেষের ফুল তুলি।
আমার দুর্গা বিজয়াদশমী আসছে বছর আবার
রূপং দেহি, জয়ং দেহি আসবে ঘরে আমার।
আমার দুর্গা কন্যাকুমারী লগ্নভ্রষ্টা আত্তিশ্যা
পথে পড়ে থাকা কোজাগরী ভ্রূণ দীপাণ্বিতার পুণ্যাশা।
আমার দুর্গা সারাটিবছরে শ্লীলতাহানির অপমানে
ধর্ষিতা আর লাঞ্ছিতা সে যে বাঁচতে পারেনা সম্মানে।
আমার মেয়েটা ধর্ষিতা আজ চোখের কোণায় কালি।
প্রতিবাদে তার অ্যাসিড-অ্যাটাক ঈভটিজিংয়ে বলি।
তোমার দুর্গা হয়ত গোপনে পণপ্রথার বলি
পণ্যরূপেও পাচার দুর্গা শহরের চোরাগলি।
আমার দুর্গা লেবারপেনেতে ভরাপোয়াতির রূপ
সম্ভোগে আর শীত্কারে সাড়া বাকী সময়েতে চুপ।
আমার কন্যাভ্রূণেতে লুকিয়ে সেই দুর্গার অংশ
তবু ঘরে ঘরে দুর্গারা করে কন্যারে নির্বংশ ।
কন্যাং দেহি, কন্যাং দেহি, হোক কলরব বিজয়ায়
আমার দুর্গা মাতিয়ে রাখবে বোধন থেকে দশেরায়।
কন্যাং দেহি, কন্যাং দেহি কন্যার জয়গান।
আমার দুর্গা শুনতে কি পাও কন্যাশ্লোকের গান?
ওরে কে আছিস? আয় না ছুট্টে, বাঁচা না জ্যান্তদুর্গাকে
দুর্গা না এলে দুর্গাকে আর কুমারীপুজোয় মানবে কে ?
Saturday, June 11, 2016
মাছরাঙা
মাছরাঙা রাঙা নয়, আহ্লাদে নীলচে
মুড দেখে মনে হল, শুধু মাছ গিলচে।
আশেপাশে উঁকি দেয়, যদি পায় দোসরে
আড্ডাটা জমে যাবে গরমের দুপুরে।
ফুটিফাটা মাঠঘাট বন্ধুরা আসেনা
মাছরাঙা ভাবে শুধু বিষ্টিটা নামেনা।
আয় ঘুম, যায় ঘুম, মেঘকালো দুপুরে
মাছরাঙা বসে ডাকে সঙ্গী ও সাথীরে।
ট্রিং-ট্রিং-ট্রুং-ট্রুং কত সুরে ডাকে সে
কেউ তো আসেনা আর কাঠফাটা জ্যৈষ্ঠ্যে।
কিন্তু সে বড়ো একা রোদে আর দুপুরে
মাছ খেয়ে ক্লান্ত সে নামবেনা পুকুরে।
শুধু যদি পায় এক বন্ধু কি সঙ্গ !
তাহলেই জমে যাবে তামাশা ও রঙ্গ ।
রাঁধতে তো পারিনা, কাঁচাতেই তুষ্ট
শুনেছি বলে যে লোকে, কাঁচা খেলে চোখ পুষ্ট।
যদি তুই রেঁধে দিস, কোফ্তা ও কালিয়া
খেয়েতো নেবই আমি, আঁশ-পোঁটা ফেলিয়া ।
শুনেছি বাঙালি নাকি মাছেভাতে পুষ্ট
আমিও কি ঐ জাত? মাছ পেলে তুষ্ট?
শোল-বোল, চুনোপুঁটি যাই পাই গিলি ভাই
মাছ বলে কথা তবু জ্যান্ত হওয়াই চাই।
শুনছি বাঙালী নাকি মরা মাছ রেঁধে খায়
জাপানের লোকে নাকি কাঁচা সুসি গেলে তাই?
এতসব ভেবে শেষে উড়ে গেল খুশিতে
একা একা চলে গেল পুকুরের পাড়েতে।
যদি দুটো পাওয়া যায় ট্যাংরা কি খলসে
পাতপেড়ে খাবে বসে কি সুখ এ আয়েষে।
মুড দেখে মনে হল, শুধু মাছ গিলচে।
আশেপাশে উঁকি দেয়, যদি পায় দোসরে
আড্ডাটা জমে যাবে গরমের দুপুরে।
ফুটিফাটা মাঠঘাট বন্ধুরা আসেনা
মাছরাঙা ভাবে শুধু বিষ্টিটা নামেনা।
আয় ঘুম, যায় ঘুম, মেঘকালো দুপুরে
মাছরাঙা বসে ডাকে সঙ্গী ও সাথীরে।
ট্রিং-ট্রিং-ট্রুং-ট্রুং কত সুরে ডাকে সে
কেউ তো আসেনা আর কাঠফাটা জ্যৈষ্ঠ্যে।
কিন্তু সে বড়ো একা রোদে আর দুপুরে
মাছ খেয়ে ক্লান্ত সে নামবেনা পুকুরে।
শুধু যদি পায় এক বন্ধু কি সঙ্গ !
তাহলেই জমে যাবে তামাশা ও রঙ্গ ।
রাঁধতে তো পারিনা, কাঁচাতেই তুষ্ট
শুনেছি বলে যে লোকে, কাঁচা খেলে চোখ পুষ্ট।
যদি তুই রেঁধে দিস, কোফ্তা ও কালিয়া
খেয়েতো নেবই আমি, আঁশ-পোঁটা ফেলিয়া ।
শুনেছি বাঙালি নাকি মাছেভাতে পুষ্ট
আমিও কি ঐ জাত? মাছ পেলে তুষ্ট?
শোল-বোল, চুনোপুঁটি যাই পাই গিলি ভাই
মাছ বলে কথা তবু জ্যান্ত হওয়াই চাই।
শুনছি বাঙালী নাকি মরা মাছ রেঁধে খায়
জাপানের লোকে নাকি কাঁচা সুসি গেলে তাই?
এতসব ভেবে শেষে উড়ে গেল খুশিতে
একা একা চলে গেল পুকুরের পাড়েতে।
যদি দুটো পাওয়া যায় ট্যাংরা কি খলসে
পাতপেড়ে খাবে বসে কি সুখ এ আয়েষে।
Thursday, May 12, 2016
Subscribe to:
Posts (Atom)


